Skip to main content

Posts

বুদ্ধ, হরিচাঁদ ও আম্বেদকরের আন্দোলন: একটি ঐতিহাসিক ও আদর্শিক যোগসূত্র লেখক: জগদীশচন্দ্র রায়

  বুদ্ধ , হরিচাঁদ ও আম্বেদকরের আন্দোলন: একটি ঐতিহাসিক ও আদর্শিক যোগসূত্র লেখক: জগদীশচন্দ্র রায় (মূল লেখাটিকে Ai দিয়ে সম্পাদিত করা হয়েছে) মতুয়া আন্দোলন সম্পর্কে আলোচনা করতে গিয়ে একটি প্রশ্ন প্রায়ই উত্থাপিত হয়—মতুয়া আন্দোলনের সঙ্গে গৌতম বুদ্ধ এবং ড. বি. আর. আম্বেদকরের সম্পর্ক কোথায় ? কেন তাঁদের একই ধারার আলোচনায় যুক্ত করা হয় ? এই প্রশ্নের উত্তর খুঁজতে হলে বিষয়টিকে কেবল ধর্মীয় বা আবেগগত দৃষ্টিকোণ থেকে নয় , বরং ইতিহাস , সমাজচিন্তা ও আন্দোলনের ধারাবাহিকতার আলোকে বিশ্লেষণ করতে হবে। কারণ , প্রতিটি আন্দোলনের পেছনে যেমন একটি নির্দিষ্ট কারণ থাকে , তেমনি থাকে তার অস্তিত্ব , বিকাশ ও উত্তরাধিকারের প্রশ্ন। এই আলোচনায় প্রবেশের আগে একটি বিষয় স্পষ্ট করা প্রয়োজন। অনেকের মনে হতে পারে যে মতুয়া ধর্মকে বৌদ্ধধর্মের সঙ্গে একীভূত করার চেষ্টা করা হচ্ছে। বাস্তবে এই প্রবন্ধের উদ্দেশ্য তা নয়। এখানে কেবল ইতিহাস , গ্রন্থসূত্র ও বিভিন্ন চিন্তাধারার মিল-অমিলের ভিত্তিতে একটি বিশ্লেষণ উপস্থাপন করা হয়েছে। গ্রহণ বা বর্জন সম্পূর্ণরূপে পাঠকের নিজস্ব বিবেচনার বিষয়। হরিচাঁদ ঠাকুর ও বুদ্ধের আদর...

গুরুচাঁদ ঠাকুরের শিক্ষা আন্দোলন ও মহাপ্রাণ যোগেন্দ্রনাথ মণ্ডল সম্পর্কে মূল্যায়ন। লেখিকা- অধ্যাপিকা ডঃ দেবী চ্যাটার্জী

  গুরুচাঁদ ঠাকুরের শিক্ষা আন্দোলন ও মহাপ্রাণ যোগেন্দ্রনাথ মণ্ডল সম্পর্কে মূল্যায়ন। লেখিকা- অধ্যাপিকা ডঃ দেবী চ্যাটার্জী     গুরুচাঁদ ঠাকুরের কথা যখন বলি, তখন শুধুমাত্র একজন মানুষের কথা বলি না, একটা ইতিহাসের কথা বলি, একটা সমাজ ব্যবস্থার কথা বলি, সেই সমাজ ব্যবস্থাটার বিরুদ্ধে একটা   প্রতিবাদী আন্দোলনের কথা বলি, প্রতিবাদের ভাষার কথা বলি, ভবিষ্যতের একটা স্বপ্নের কথা বলি।    মানুষকে যখন দাবিয়ে রাখতে হয় তখন তাকে শিক্ষা থেকে বঞ্চিত রাখা হয়। শিক্ষার সুযোগ যাতে না পায় তার জন্য আমাদের দেশে এটা করা হোল একদম ধর্মের সঙ্গে মিশিয়ে দিয়ে। অস্পৃশ্য শূদ্রদের ধর্মে শিক্ষা গ্রহণ নিষিদ্ধ করা হল –আর এটা করা হল যাতে তারা শিক্ষার সুযোগ না পায়।       শিক্ষার অধিকারটা মেয়েদেরও দেওয়া হল না। তাহলে শিক্ষা থেকে বাদ দেওয়া হল কাদের?   বাদ দেওয়া হল শূদ্রদের, বাদ দেওয়া হল মেয়েদের। এরা কারা? যারা সমাজকে টিকিয়ে রাখার জন্য শ্রমটা দেবেন। তাদের শ্রম কারা নেবে –উঁচু জাতির মানুষরা নেবেন। তারা শিক্ষালাভ করবেন। আর তারা শ্রম দেবেন না। এখানেও নিষেধাজ্ঞা রইল। নীচ...

শিক্ষার আলোকবর্তিকা গুরুচাঁদ ঠাকুর: তিনি কি শুধু প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষার কথা বলেছেন? না কি সঙ্গে অন্য কিছুর কথাও বলেছেন? লেখক: জগদীশচন্দ্র রায়

  শিক্ষার আলোকবর্তিকা গুরুচাঁদ ঠাকুর: তিনি কি শুধু প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষার কথা বলেছেন ? না কি সঙ্গে অন্য কিছুর কথাও বলেছেন ? লেখক: জগদীশচন্দ্র রায়      বাংলার পিছিয়ে পড়া মানুষের মুক্তির ইতিহাসে গুরুচাঁদ ঠাকুর এক অবিস্মরণীয় নাম। তিনি কেবল একজন ধর্মীয় বা সামাজিক নেতা ছিলেন না , বরং তিনি ছিলেন এক দূরদর্শী শিক্ষা-সংস্কারক। তাঁর কাছে শিক্ষা ছিল শৃঙ্খলমুক্তির প্রধান হাতিয়ার। ১. সত্য উপলব্ধি ও সংগ্রামের ভিত্তি: সঠিক শিক্ষা      গুরুচাঁদ ঠাকুর অনুধাবন করেছিলেন , তৎকালীন বাংলায় অনুন্নত শ্রেণির মানুষের বঞ্চনার মূল কারণ হলো ' অজ্ঞতা ' । অশিক্ষার অন্ধকারকে পুঁজি করেই কতিপয় সুবিধাবাদী গোষ্ঠী তাদের ওপর শোষণ ও নির্যাতনের স্টিম রোলার চালাত। যে সমাজে অস্পৃশ্যদের বিদ্যালয়ের আঙিনা স্পর্শ করা ছিল কল্পনাতীত , সেখানে দাঁড়িয়ে তিনি ঘোষণা করলেন— “ শিক্ষা ছাড়া মানুষ কখনও প্রকৃত সত্য উপলব্ধি করতে পারে না।” সত্যকে না জানলে অধিকার সচেতন হওয়া সম্ভব নয় , আর সচেতন না হলে সংগঠিত আন্দোলন গড়ে তোলা অসম্ভব। এই লক্ষ্যেই ১৮৮০ সালে তিনি নিজ বাসভবনে একটি পাঠশালা স্থাপন কর...