Skip to main content

Posts

Showing posts from April, 2026

শিক্ষার আলোকবর্তিকা গুরুচাঁদ ঠাকুর: তিনি কি শুধু প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষার কথা বলেছেন? না কি সঙ্গে অন্য কিছুর কথাও বলেছেন? লেখক: জগদীশচন্দ্র রায়

  শিক্ষার আলোকবর্তিকা গুরুচাঁদ ঠাকুর: তিনি কি শুধু প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষার কথা বলেছেন ? না কি সঙ্গে অন্য কিছুর কথাও বলেছেন ? লেখক: জগদীশচন্দ্র রায়      বাংলার পিছিয়ে পড়া মানুষের মুক্তির ইতিহাসে গুরুচাঁদ ঠাকুর এক অবিস্মরণীয় নাম। তিনি কেবল একজন ধর্মীয় বা সামাজিক নেতা ছিলেন না , বরং তিনি ছিলেন এক দূরদর্শী শিক্ষা-সংস্কারক। তাঁর কাছে শিক্ষা ছিল শৃঙ্খলমুক্তির প্রধান হাতিয়ার। ১. সত্য উপলব্ধি ও সংগ্রামের ভিত্তি: সঠিক শিক্ষা      গুরুচাঁদ ঠাকুর অনুধাবন করেছিলেন , তৎকালীন বাংলায় অনুন্নত শ্রেণির মানুষের বঞ্চনার মূল কারণ হলো ' অজ্ঞতা ' । অশিক্ষার অন্ধকারকে পুঁজি করেই কতিপয় সুবিধাবাদী গোষ্ঠী তাদের ওপর শোষণ ও নির্যাতনের স্টিম রোলার চালাত। যে সমাজে অস্পৃশ্যদের বিদ্যালয়ের আঙিনা স্পর্শ করা ছিল কল্পনাতীত , সেখানে দাঁড়িয়ে তিনি ঘোষণা করলেন— “ শিক্ষা ছাড়া মানুষ কখনও প্রকৃত সত্য উপলব্ধি করতে পারে না।” সত্যকে না জানলে অধিকার সচেতন হওয়া সম্ভব নয় , আর সচেতন না হলে সংগঠিত আন্দোলন গড়ে তোলা অসম্ভব। এই লক্ষ্যেই ১৮৮০ সালে তিনি নিজ বাসভবনে একটি পাঠশালা স্থাপন কর...

শিক্ষা সম্পর্কে গুরুচাঁদ ঠাকুর। তিনি কি শুধু প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষার কথা বলেছেন? না কি সঙ্গে অন্য কিছুর কথাও বলেছেন? লেখক- জগদীশচন্দ্র রায়

  শিক্ষা সম্পর্কে গুরুচাঁদ ঠাকুর । তিনি কি শুধু প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষার কথা বলেছেন ? না কি সঙ্গে অন্য কিছুর কথাও বলেছেন ? লেখক - জগদীশচন্দ্র রায় ( আমার বই - ‘ গুরুচাঁদ ঠাকুরের শিক্ষা আন্দোলন ’ থেকে তুলে দিলাম । )     সঠিক শিক্ষাই মানুষকে প্রকৃত সত্য   জানতে সাহায্য করে ঃ -   গুরুচাঁদ দেখেন, এই বাংলার মধ্যে যারা অনুন্নত জাতির লোক আছে তাদের কাছে শিক্ষা বিষয়টা হচ্ছে গভীর অন্ধকারময়। সকলে অশিক্ষার অন্ধকারে নিমজ্জিত থেকে দুঃখ ভোগ করছে। এদের অশিক্ষার সুযোগ নিয়ে সকলে এদেরকে প্রতিনিয়ত শোষণ করে চলেছে, অধিকার বঞ্চিত করে চলেছে । তৎকালীন অবস্থার পরিপ্রেক্ষিতে যাদের স্কুলের দরজা দেখার অধিকার ছিল না, সাধারণের জলাশয় থেকে যাদের জলপানের অধিকার ছিল না, তাদের ছেলে-মেয়েরা স্কুলে যাবে একথা ভাবাও যেন পাপ! কিন্তু গুরুচাঁদ ঠাকুর জানতেন শিক্ষা ছাড়া মানুষ কখনও প্রকৃত সত্যকে উপলব্ধি করতে পারে না । আর এই প্রকৃত সত্যকে জানতে না পারলে কোন দিনও তারা অত্যাচারীদের অত্যাচার বন্ধ করার জন্য সংঘবদ্ধ আন্দোলনও গড়ে তুলতে পারবে না । একমাত্র সঠিক শিক্ষাই মানুষকে প্রকৃত সত্য   জানতে সাহা...

গুরুচাঁদের শিক্ষা আন্দোলনে ডাঃ সি. এস. মীডের অবদান। লেখক- জগদীশচন্দ্র রায়

  গুরুচাঁদের শিক্ষা আন্দোলনে ডাঃ সি. এস. মীডের অবদান। লেখক - জগদীশচন্দ্র রায় ( আমার লেখা ‘ গুরুচাঁদ ঠাকুরের শিক্ষা আন্দোলন ’ থেকে তুলে দিলাম । )     প্রবাদ আছে প্রত্যেকের সাফল্যের পিছনে একজন শুভান্যুধায়ী থাকে। যার শুভকামনা ও সহযোগীতা বিনা সেই সাফল্য অর্জন করা অসম্পূর্ণ থেকে যায়।    গুরুচাঁদ ঠাকুরের এইযে যে, শিক্ষা আন্দোলন ও সামাজিক আন্দোলন, তার প্রথম প্রেরণা হচ্ছেন তাঁর পিতা হরিচাঁদ ঠাকুর। যার কাছে তিনি দায়বদ্ধ ছিলেন। কিন্তু অন্যজন, যিনি গুরুচাঁদ ঠাকুরের পাশে সর্বক্ষণ ছায়ার মত থেকে সমস্ত কাজের জন্য সহযোগিতা করেছেন তিনি হচ্ছেন, অস্ট্রেলিয়ান মিশনারি ডাঃ সি. এস. মীড্‌ (ডাঃ সিসিল সিলাস মীড্‌) । যিনি খৃষ্ট ধর্মের প্রচারের   জন্য এবং দীন দরিদ্রদের সেবা করার জন্য ঘুরতে ঘুরতে বঙ্গদেশে আসেন। আর ১৯০৬ সালে প্রথমে ফরিদপুরে (জেলা) আসেন । তারপর ঘটনা ক্রমে তিনি তাঁর উদ্দেশ্য নিয়ে ওড়াকান্দীতে গুরুচাঁদ ঠাকুরের কাছে আসেন এবং তাঁর উদ্দেশ্যের কথা ঠাকুরের কাছে ব্যক্ত করেন। তিনি ছিলেন একাধারে ডাক্তার অন্যধারে খৃষ্টান ধর্ম প্রচারক। তিনি গুরুচাঁদ ঠাকুরের কাছে আসেন খৃ...