Skip to main content

Posts

*হরিনামের রথ* লেখক – জগদীশচন্দ্র রায়

                                                                                                                              * হরিনামের রথ* লেখক – জগদীশচন্দ্র রায় মতুয়াদের মধ্যেও ‘রথ’ এর সংস্কৃতির নিদর্শন খুঁজে পাচ্ছি। লিখিত নয় , সামাজিকভাবে প্রচলিত। তবে এই রথ বৈদিক মতের তিথি অনুসারে চালানো হলেও এর মাহাত্ত্ব কিন্তু বৈদিক নয়। আসুন এ সম্পর্কে কিছু আলোকপাত করা যাক।      প্রথমেই জানাই , বাংলাদেশের Jagoran Patrika - এর সম্পাদক ও মতুয়া গবেষক Shashanka Bar মহাশয় এই বিষয়ে তাঁর টিম নিয়ে অনুসন্ধান করতে গিয়ে খোঁজ পেয়েছেন – ‘বাংলাদেশের গোপালগঞ্জ জেলার শ্রীপুর গ্রামে দশরথ বর (বিশ্বাস) নামে একজন মহা হরিভক্ত বাস করতেন। একদিন তিনি তাঁর প্রাণের ঠাকুর হরিচাঁদক...

মতুয়া নামের উৎপত্তি। লেখক – জগদীশ রায়

  মতুয়া নামের উৎপত্তি (১) লেখক – জগদীশ রায় শ্রীশ্রীহরিলীলামৃত -এর ৬৬ পৃষ্ঠায় “ভক্তগণের মতুয়া খ্যাতিববরণ”(১ম সংস্করণ) -এ দেখতে পাই,   ওঢ়াকাঁদি রাউৎখামার মল্লকাঁদি।    ভ্রমণ করেন হরিচাঁদ গুণনিধি।।    সঙ্গে ভক্তগণ ফিরে পরম আনন্দে।    নাম সংকীর্ত্তন গান হ’তেছে স্বচ্ছন্দে।।   হেন কালে তিন জন ব্রাহ্মণ আসিল। সভামধ্যে আসিয়া তাহারা দাণ্ডাইল।। সবে বলে বসুন বিছানা আছে অই। তারা বলে হরিচাঁদ প্রভু তিনি কই।। (শ্রীশ্রীহরিলীলামৃত ১ম সংস্করণ পৃ. ৬৭) এরকম সময় তিন জন ব্রাহ্মণ সভায় উপস্থিত হয়। তারা জানতে চায় ‘ঠাকুর’ কে ? সভার লোকেরা ঠাকুরকে দেখিয়ে দেয়। কিন্তু এই তিনি জনের কেউই ঠাকুরকে প্রণাম করছে না দেখে সভার থেকে বলা হয় যে, ‘ঠাকুর দেখিলে পরে প্রণামিতে হয়।’ তারপর এক এক করে দুজনে প্রণাম করে। কিন্তু অন্য জন্য দাঁড়িয়েই থাকে। তখন তার ঘাড় ধরে জোর করে প্রণাম করতে বাধ্য করানো হয়। কিন্তু এই ঘটনা দেখে – ‘ সভাসদ বিপ্র যত রাগান্বিত হ’ল।’ আর এই খবর জানার পর গ্রামের অনেক লোকই রেগে যায়। তখন তারা ঠাকুরের সম্পর্কে বিভিন্ন কটু কথা বলতে শুরু করে। তারা বলে ...

বহুজন সমাজ কেন একতা বদ্ধ হতে পারছে না? কী করলে সংঘবদ্ধ হওয়া যাবে? লেখক – জগদীশ রায়

  বহুজন সমাজ কেন একতা বদ্ধ হতে পারছে না? কী করলে সংঘবদ্ধ হওয়া যাবে? লেখক – জগদীশ রায় বুদ্ধিহীন সরলতা       আর নাহি চলে হেথা                           কূট-বুদ্ধি বটে দরকার । (গুরুচাঁদ চরিত পৃ.৪৪৩) সমাজ আজ দিশা হীন। যেদিকেই হাত দেওয়া হচ্ছে সেদিকেই বর্ণবাদীদের কূটচক্রে পরাস্ত হচ্ছে। সমাজে গতানুগতিকতা দিয়ে সব সময় চলে না। পরিস্থিতির উপর নজর রেখে প্রয়োজনী পদক্ষেপের দরকার। তার জন্য দরকার ‘কূট-বুদ্ধির’। আপনার শত্রু সব সময় চাইবে আপনার অস্ত্রদিয়ে আপনাকেই ঘায়েল করতে। যার উদাহরণ প্রতিনিয়ত চোখে পড়ছে। তো এই সমস্যা থেকে উদ্ধার পেতে হলে আরো দরকার- শক্তি না দেখিলে কেউ করে না সম্মান। শক্তিশালী হ’তে সবে হও যত্ন বান।। (গুরুচাঁদ চরিত পৃ. ৫৭৩) হ্যাঁ আপনাকে প্রতিনিয়ত সংগ্রাম করে বেঁচে থাকতে হবে। তার জন্য প্রয়োজন শক্তিশালী হওয়া। শক্তির প্রদর্শন করা। এটাই অন্যতম পথ। আর এই শক্তি প্রদর্শনের জন্য অবশ্যই দরকার- যে জাতির দল নাই, সে জাতির বল না...

গুরুচাঁদ_ঠাকুর কি সত্যি সত্যি কালী পূজা করেছিলেন? কালী পূজার দিন গুরুচাঁদ ঠাকুর সকল মতুয়াদেরকে কী করতে বলেছিলেন? দীপদান উৎসবের আসল অর্থ কী?

কালী পূজার দিন গুরুচাঁদ ঠাকুর কেন ঠাকুর উৎসব পালন করতে বলেছিলেন?  দীপদান উৎস বের আসল অর্থ কী?  “ঠাকুর উৎসব” ও “দীপদান উৎসব” উপলক্ষে সকলকে আন্তরিক শুভেচ্ছা জানাই।      পুরানো ইতিহাসকে যতই পরিবর্তন করা হোক না কেন তার চিহ্ন থেকে যায়। যেমন বলা হয় – নদী মরে গেলেও তার রেখা থেকে যায়। তেমনই আমরা দেখতে পাই – বাংলায় কালী পূজার দিন যেটাকে অন্যত্র দীপাবলির দিন বলা হয়। আর মতুয়া বিচারধারায় এটাকে “ঠাকুর উৎসব” বলা হয়। যার প্রবর্তন করেন গুরুচাঁদ ঠাকুর ১৯০৮ সালের ২৫ অক্টোবর। (ভিডিওটি   দেখুন) https://www.youtube.com/watch?v=gMj3jeYozyU&t=37s  এই দিন   সাধারণত কার্ত্তিক অমাবশ্যার দিন। যে দিনে ঘরে ঘরে প্রদীপ জ্বালানো হয়। হ্যাঁ, এই প্রদীপ জ্বালানোই ইতিহাসের চিহ্ন রাখে। প্রশ্ন হচ্ছে এই দিনে কেন প্রদীপ জ্বালানো হয়? এই প্রশ্নের উত্তরের সন্ধানের পূর্বে আমাদের জেনে রাখা ভালো যে, সারাভারত অর্থাৎ অবিভক্ত ভারত এক সময় বৌদ্ধময় ছিল। আর বাংলায় প্রায় সাড়ে চারশো বছর বৌদ্ধ শাসন ছিল। যদিও সে সব লুপ্ত প্রায়। বা সে সব ইতিহাস নিশ্চিহ্ন করে দেওয়া হয়েছে। আর সামাজিক...

বুদ্ধ, হরিচাঁদ ও আম্বেদকরের আন্দোলন: একটি ঐতিহাসিক ও আদর্শিক যোগসূত্র লেখক: জগদীশচন্দ্র রায়

  বুদ্ধ , হরিচাঁদ ও আম্বেদকরের আন্দোলন: একটি ঐতিহাসিক ও আদর্শিক যোগসূত্র লেখক: জগদীশচন্দ্র রায়     মতুয়া আন্দোলনের ক্ষেত্রে একটা প্রশ্ন প্রায়ই দেখতে পাই যে , মতুয়া আন্দোলনের সঙ্গে বুদ্ধকে এবং আম্ববেদকরকে কেন সংযুক্ত করা হচ্ছে। বিষয়টাকে সাধারণ দৃশটিতে বিশ্লেষণ করলে কিন্তু সঠিক তাৎপর্যকে অনুধাবন করা যাবে না।   কারণ , যেকোন ঘটনার পিছনে যেমন কারণ থাকে , আর সেই কারণের সঙ্গে জুড়ে থাকে তার অস্তিত্ত্বের প্রশ্ন ।  আর একটি কথা এই আলোচনার ভিতরে যতো প্রবেশ করবেন, কিছু কিছু পাঠকের মনে হতে পারে আমি ‘মতুয়া ধর্ম’ কে বৌদ্ধ ধম্মে রূপান্তরিত করার চেষ্টা করছি। আমি যে যুক্তি ও তথ্য উপস্থাপন করেছি সেটার উদ্দেশ্য শুধু আপনাদের কাছে তুলে ধরা। গ্রহণ বা বর্জন আপনাদের ব্যক্তিগত ব্যাপার ।           আমরা প্রথমেই দেখে নেই মতুয়া আন্দোলন বা হরি - গুরুচাঁদের সঙ্গে বুদ্ধের কী সম্পর্ক আছে ।      আমি প্রথমেই এই ধরনের প্রশ্ন কর্তাদের অনুরোধ করব যে , তাঁরা যেন যুক্তিবাদী মানসিকতা নিয়ে মতুয়া আদর্শকে বিচার বিশ্লেষণ করতে চেষ্টা করেন । আর ...