হরিচাঁদ ও গুরুচাঁদ ঠাকুর আমাদের কে?
লেখক- জগদীশচন্দ্র রায়
হরিচাঁদ গুরুচাঁদ ঠাকুর আমাদের কে? ভগবানের ব্যাখ্যা কি? আমরা তাঁদের কেন মন্দিরে প্রতিষ্ঠা করি? এছাড়া আর কোন্ মন্দিরে প্রতিষ্ঠা করা দরকার। তাঁরা মতুয়া ধর্ম কেন দিলেন? এই ধর্মের আদর্শ কী? গুরুচাঁদ ঠাকুর কেন স্কুল করার প্রতি জোর দিয়েছিলেন? কেন শিক্ষার আন্দোলন করেছিলেন?
আমরা এই মহামানদের নির্দেশ, আদর্শ কতটা পালন করি? আমাদের কী করা দরকার।
যদি প্রশ্ন করি যে, হরিচাঁদ
গুরুচাঁদ ঠাকুর আমাদের কে? আপনারা হয়তো উত্তর দেবেন তাঁরা আমাদের ভগবান,
মহামানব, পতীতের উদ্ধার কর্তা। ইত্যাদি। এবার
বলুন তাঁরা ভগবানের বলতে কী বুঝিয়েছেন? এই ভগবানদের পূজা
কিভাবে করতে বলেছেন?
আমরা শ্রীশ্রীহরিলীলামৃতের প্রথম পৃষ্ঠাতেই দেখতে
পাই-
যে যাহারে ভক্তি করে সে
তার ঈশ্বর।
প্রশ্ন হচ্ছে, আপনারা যে
কাউকেই কি ভক্তি করবেন? তাহলে যাকে ভক্তি করবেন বা করেন,
কেন?
আমরা শ্রীশ্রীগুরুচাঁদ চরিতেও দেখতে পাই-
বিশ্বভরে এই নীতি দেখি
পরস্পর।
যে যা’রে উদ্ধার করে সে
তার ঈশ্বর।। (গু. চ. পৃঃ ৫২৯)
এখানে ঈশ্বরের ব্যাখ্যাটাকে কিন্তু গতানুগতিকতার
ঊর্ধে গিয়ে বাস্তবতাকে তুলে ধরে বলা হয়েছে-যেযাহাকে
উদ্ধার করে সে তার ঈশ্বর। অর্থাৎ ঈশ্বর এখানে কোন অলীক কেউ নন। ঈশ্বর হচ্ছেন
উদ্ধার কর্তা। আর এই উদ্ধার কর্তাকেই লোকে ভক্তি শ্রদ্ধা করেন।
তো এই
নিপীড়িত বঞ্চিতদের উদ্ধার কর্তার কথা যদি বলতে হয়, তাহলে আমরা দেখতে পাই- মহামানব
গৌতম বুদ্ধ, হরিচাঁদ ঠাকুর, গুরুচাঁদ ঠাকুর, মহাপ্রাণ যোগেন্দ্রনাথ মন্ডল, বাবাসাহেব
ড. ভীম রাও আম্বেদকর, পেরিয়ার, গুরু নানক, গুরু রবিদাস, মাতা সাবিত্রীবাই ফুলে,
মহাত্মা জ্যোতিরাও ফুলে, ফতেমা শেখ, বেগম রোকেয়া ইত্যাদি। আবার বিশ্বের অন্যান্য
দেশেও এরকম দেখতে পাই, যেমন- মার্টিন লুথার, জন আব্রাহাম
লিঙ্কন, নেলসন ম্যাণ্ডেলা ইত্যাদি।
এই মহামানবেরা নিপীড়িত বঞ্চিত মানুষদের অধিকার আদায়ের জন্য সংগ্রাম করেছেন। তাই এই
মহামানবেরা এই অর্থে ঈশ্বর বা উদ্ধার কর্তা। কর্মের মধ্য দিয়ে এঁদের জ্ঞান-আদর্শের
পূজা করতে হবে।
আমরা তাঁদের কেন মন্দিরে প্রতিষ্ঠা করি? এছাড়া আর কোন্ মন্দিরে প্রতিষ্ঠা করা দরকার।
সেই মন্দিরে কাঁদের পূজা করতে হবে?
নিত্য পূজা কর সেথা সরল অন্তরে।।
এইখানে আমি বলি’ এক সমাচার।
দেবতা-মন্দিরে পূজা করিবে কাহার? (গু. চ. পৃঃ ৫২৯)
আপনারা
খুব গভীরভাবে লক্ষ্য করুন, গুরুচাঁদ ঠাকুর ঘরে ঘরে দেবতার মন্দির গড়ার কথা বলছেন।
কিন্তু তিনি আবার প্রশ্ন করছেন যে, সেই মন্দিরে কাঁর পূজা করা হবে? তিনি
নিজের প্রশ্নের উত্তর দিতে গিয়ে
দৃপ্তকন্ঠে এক অমোঘ নির্দেশ দিয়েছেন যে, “এই মন্দিরে এমন ঈশ্বরকে স্থাপন করে
পূজা করবে, যে ঈশ্বর সারা বিশ্বময় বিরাজ করছে। যে ঈশ্বর মানুষকে তাদের প্রতি
অন্যায়, অত্যাচার, সামাজিক ধর্মীয় বিষয়ে জাতিভেদ ও সমস্ত অসমানতার বিরুদ্ধে গর্জে
উঠে সংগ্রাম করেছেন। এইসব সমস্যা থেকে পিড়ীতদের উদ্ধার করেছেন। সেই ঈশ্বরের পূজা
করতে হবে।” তবে সেই পূজা কেমন করে হবে? সেই মন্দির কেমন হবে? এখানে মন্দির অর্থ
কিন্তু শুধু মূর্তি স্থাপনের জন্য নয়; শুধু ঘট ফুল পাতা ইত্যাদি প্রচলিত পূজাচার
নয়। এখানে মন্দিরের আর একটি বৃহত্তর অর্থ হচ্ছে মনমন্দির, শিক্ষার উপকরণের মন্দির।
যে মনমন্দির সুশিক্ষার উপকরণে পরিপূর্ণ হবে। যে মন্দিরের অর্ঘ দেশ সমাজ ও জাতির
মঙ্গল বয়ে নিয়ে আসবে। প্রগতির ক্ষেত্রে জাগরণ ঘটাবে।
তোমাদের এই কুলে হরি
অবতার।
দয়া করে নমঃশূদ্রে করিল
উদ্ধার।।
তাঁর পূজা কর সবে তাঁর
ভক্ত হও।
নিজ ঘরে ভগবান ফেলে কোথা
যাও? (পৃঃ গুরুচাঁদ
চরিত ৫২৯)
তোমাদের ঈশ্বর বা অবতার বা উদ্ধার কর্তা যাই বলোনা কেন তিনি হচ্ছেন হরিচাঁদ
ঠাকুর। তোমরা তাঁর পূজা কর।
তবে এই পূজা শুধুমাত্র ফুল, বেলপাতা চিন, বাতাসার নয়। এই পূজার উপচার হবে সত্য,
প্রেম পবিত্রতা। পরোপকার। চরিত্র গঠন। সঠিক শিক্ষায় শিক্ষিত হওয়া। এক কথায় হরিচাঁদ
ঠাকুরের কর্ম ও আদর্শের পূজা। যে
পূজার ফলে জাতি, সমাজ ও দেশের মঙ্গল হবে। কিন্তু আমরা বেশিরভাগ মতুয়ারা নিজেদের
ভগবানকে চিনতে না পেরে বৈদিকতার জ্বালে ফেঁসে আছি। হরিচাঁদ
ঠাকুর নিজেই যে সব‘বেদ-বিধি শৌচাচার নাহি মানি’ বলে ঘোষণা
করেছেন, সেখানে বেশিরভাগ মতুয়া বৈদিকতা
নিয়ে মেতে আছেন। আর হরিচাঁদ গুরুচাঁদ ঠাকুরকেও সেই বৈদিকরার মধ্যে গুলিয়ে দিচ্ছেন। যদিও মতুয়া
দর্শনে আছে, যে হরিচাঁদের নির্দেশ মেনে চলবে- ‘না ডাক’ হরিকে হরি তোমাকে ডাকিবে।’ -গু.চ. ৫৬৯
সেজন্য গুরুচাঁদ ঠাকুর তাদের সতর্ক করে দিয়ে বলেছেন
- তোমরা তোমাদের নিজের ঘরের ভগবানকে ফেলে রেখে অন্য কোথায় যেতে চাইছো? এতো স্পষ্ট
করে বলার পরেও আজ মতুয়ারা বিপথগামী কেন??
আম্বেদকর-
ধর্ম, সামাকিজ মর্যাদা এবং
সম্পদ এই তিনটি জিনিস ক্ষমতা এবং কর্তৃত্বের উৎস হিসাবে কাজ করে। এই তিনটির যে
কোনো একটি দ্বারা একজন মানুষ আর একজন মানুষের স্বাধীনতাকে নিয়ন্ত্রণ করতে পারে।
একটা অবস্থায় একটা উপাদান প্রভাব বিস্তার করে, অন্য অবস্থায়
অন্য একটা উপাদান প্রভাব বিস্তার করে– এটাই শুধু পার্থক্য।
যতক্ষণ আপনারা সামাজিক ব্যবস্থার পরিবর্তন না করবেন,
ততক্ষণ তেমন কোন উন্নতি করতে পারবেন না।
যে দুর্ভেদ্য প্রাচীর দ্বারা
জাতব্যবস্থা গড়ে তোলা হয়েছে এবং যে সব উপাদানের সাহায্যে এই প্রাচীর গড়া হয়েছে, তার মধ্যে যুক্তি-নীতি নামক কোনো দাহ্য
উপাদান নেই। উপরন্তু এই প্রাচীরের অভ্যন্তরে ব্রাহ্মণ সৈন্যবাহিনী পাহারা দিচ্ছে।
সেই ব্রাহ্মণরাই বুদ্ধিজীবী শ্রেণি এবং হিন্দুদের প্রকৃত নেতা। জাত ব্যবস্থার
প্রাচীর পাহারা দেওয়ার জন্য ব্রাহ্মণ সৈন্যবাহিনী ভাড়াটে সৈন্যদের মতো পাহারা দেবে
না। তারা মাতৃভূমি রক্ষার জন্য প্রাণপন যুদ্ধ করবে।
আমি নিয়মসর্বস্ব ধর্মকে সমালোচনা করছি বলে এটা
যেন কেউ মনে না করেন যে, আমি ধর্মের প্রয়োজনীয়তাকে
অস্বীকার করছি। অপর পক্ষে আমি বার্কের (Burke) এই কথার সঙ্গে
একমত যে, “প্রকৃত ধর্ম হচ্ছে সমাজ জীবনের ভিত্তি এবং এই ভিত্তির
উপরই গড়ে ওঠে দেশের ন্যায়পরান সরকার। (True
religion is the foundation of society, the basic on which all true civil
Government rests, and both their sanction)। সুতরাং যখন আমি দাবি করি যে,
হিন্দু সমাজের প্রাচীন নিয়মগুলি বিলোপ করা দরকার, তখনই আমি মনে করি সঙ্গে সঙ্গে সেই শূন্যস্থান পূরণ করতে এমন একটি ধর্মের
প্রয়োজন, যেটা প্রতিষ্ঠিত হবে নীতির উপর ভিত্তি করে। ধর্মের
প্রয়োজনীয়তা আমি একান্তভাবে অনুভব করি। (No.24 Anihilation of Caste)
গুরুচাঁদ ঠাকুর-
হরি-গুরুচাঁদ ধর্মহীন পতীতদের নতুন ধর্ম দিয়ে ছিলেন সংঘবদ্ধ হওয়ার জন্য। সেটা
আন্দোলনের জন্য একটা সোপান বা হাতিয়ার মাত্র। তাঁরা ধর্ম বিশ্বাসের উপর দাঁড়ান নি।
মানুষকে জাগ্রত করার জন্য, প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষার সাথে সাথে সামাজিক শিক্ষা দিয়ে মূল্যবোধ জাগানোর
জন্য। সামাজিক বৈষম্য দূর করার জন্য তাঁরা ধর্মকে এক ধরনের ভাষা বা প্রকাশের
মাধ্যম হিসাবে গ্রহণ করেছিলেন। তাই বলেছিলেন,
ধর্ম্ম
শক্তি বিনা জাতি জাগেনা কখন।।” গুরুচাঁদ চতির পৃঃ ৫২৯
কিন্তু
অতি দুঃখের বিষয় হচ্ছে বেশিরভাগ মতুয়া ধর্ম-দর্শনের অনুরাগীরা
ধর্মটাকে বৈদিক ঘরানায় আবদ্ধ হয়ে আছে। তার থেকে এরা বাইরে আসারও চেষ্টা করছে না।
যারফলে যাকিছু দেখা যাচ্ছে সেটা শুধু বাহ্যিকতা। অন্তর্নিহিত ভাবনার প্রকাশ বা
প্রসার যৎ সামান্য।
লীলামৃতের ১১ পৃষ্ঠায় আমরা দেখতে
পাই-
সর্ব্ব ধর্ম্ম লঙ্ঘি এবে
করিলেন স্থুল।
শুদ্ধ মানুষেতে আর্ত্তি এই হয়
মুল।।
জীবে দয়া নামে রুচি মানুষেতে
নিষ্ঠা।
ইহা ছাড়া আর যত সব ক্রিয়া
ভ্রষ্টা।।
এই সূক্ষ্ম সনাতন ধর্ম
জানাইতে।
জনম লভিলা হরি যশোমন্তের
গৃহেতে।।
সর্ব্ব ধর্ম্ম লঙ্ঘি- অর্থাৎ জাগতিক মানুষের দ্বারা তৈরি বিভিন্ন ধর্মকে লঙ্ঘন করে অর্থাৎ
অতিক্রম করে করিলেন স্থুল- অর্থাৎ ঠিক করলেন, কী ঠিক করলেন?
শুদ্ধ মানুষেতে আর্ত্তি এই হয়
মুল – মানুষের দুঃখ, বেদনা, বিষাদ, ব্যাধি ইত্যাদির সেবা করা। এই সব সমস্যা কী করে দূর করা যাবে সে বিষয়ে কাজ
করা। মানুষের এই সেবা করাই হচ্ছে মূল বা আসল।
প্রশ্ন
হচ্ছে সেই সেবা কিভাবে হবে?
জীবে দয়া- সমস্ত জীবের প্রতি দয়া
করা। তবে এই দয়া মানে করুনা করা নয়। সেই জীবের প্রতি দয়া করতে হলে প্রথমে তাকে
ভালোবাসতে হবে। তারপর তার সমস্যা দূর করার ব্যবস্থা করতে হবে। কিন্তু ভিক্ষুকে
ভিক্ষা দেওয়াটা অনেক ক্ষেত্রে করুনা করার পর্যায়ে পড়ে। তাকে প্রায় সকলেই তুচ্ছ-তাচ্ছিল্লভাবেই কিছু সাহায্য করে।
-এই দয়াতে থাকবেনা কোনো জাতি-----
বিদ্যান হইতে হবে।
পেলে বিদ্যাধন দুঃখ নিবারণ
চির সুখি হবে ভবে।। গুরুচাঁদ চরিত পৃ. ১৩০
‘মুক্তি,’ এখানে কোন মুক্তির কথা বলা হয়েছে? এই ‘মুক্তি’ হচ্ছে অজ্ঞানতার
অন্ধকার থেকে বেরিয়া এসে জ্ঞানের আলোতে প্রবেশের মুক্তি। সেই মুক্তির জন্য আপনাদের বিদ্যান হতে হবে। তাহলে মুক্তি পাবেন। আর সব
দুখের নিবারণ ঘটবে। আপনি চির সুখি হতে পারবেন।
এখানে প্রশ্ন হচ্ছে, কোন শিক্ষা? প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষার সঙ্গে
সামাজিক শিক্ষা। আমরা প্রাতিষ্ঠানিক
শিক্ষায় বর্তমানে অনেকেই শিক্ষিত। কিন্তু সামাজিক শিক্ষা আমরা কয়জনে সঠিকভাবে গ্রহণ
করতে পেরেছি?
কিন্তু আমরা এই মুক্তিকে উপভোগ করেও জীবনের পরপারে মুক্তি চাইছি! সত্যি সত্যি ওখানে কোনো মুক্তি আছে কী? ওখানে আছে গোলামী, নির্থক অর্থ ব্যয় আর ব্রাহ্মণ ও ব্রাহ্মণ্যবাদকে প্রসাতির করা। প্রকৃত মুক্তির পেতে হলে নিচের মুক্তির সূত্রকে হৃদয়ঙ্গম করার চেষ্টা
করুন। আমার মনে হয়, হরি-গুরুচাঁদ ঠাকুর তথা সকল মহামানবই এইভাবে
মুক্তি চেয়েছেন।
মুক্তির সূত্রঃ- প্রতিবপ্লবের পর অর্থাৎ ১৮৫ খ্রীষ্ট পূর্বাব্দে পুশ্যমিত্র
সুঙ্গ সম্রাট অশোকের নাতি চতুর্থ পীডির বৃহদ্রথকে প্রকাশ্য রাজ সভায় হত্যা করে প্রতিবিপ্লব
করে। তখন থেকে ব্রাহ্মণরা শিক্ষার উপর নিষেধাজ্ঞা
জারি করলো কেন? এর উদ্দেশ্য কি ছিলো? তার উদ্দেশ্য ছিলো-
শিক্ষা থেকে বুদ্ধির বিকাশ ঘটে। বুদ্ধির
বিকাশ ঘটলে বিবেক জাগ্রত হয়। বিবেক জাগ্রত হলে বিচার বোধ জাগে এবং
সিদ্ধান্ত গ্রহণের ক্ষমতা জন্মায়। অর্থাৎ ভুলকে ভুল ও সত্যকে সত্য বলে বোঝার ক্ষমতা জন্মায়। পৃথিবীতে যত মহান কাজ হয়,
তার পেছনে থাকে নির্ণয় বা সিদ্ধান্ত। অন্য কথায়, বিচার বা সংকল্প। এই
সিদ্ধান্ত আসে বুদ্ধি থকে।
বুদ্ধি আসে শিক্ষা থেকে। এক কথায়
শিক্ষা থেকে বুদ্ধি এবং
বুদ্ধি থেকে সিদ্ধান্ত। এটাই হলো মনোবিজ্ঞান। বুদ্ধির বিকাশ না ঘটলে নির্ণয় বা
সিদ্ধান্ত গ্রহণের ক্ষমতা জন্মায় না। সিদ্ধান্ত নিতে না পারলে নেতৃত্ববোধ জন্মায়
না।
অর্থাৎ নেতা তৈরি হয়না। যে সমাজে নেতা নেই। সে সমাজের
মানুষকে সহজে নেতিয়ে দেওয়া যায়।
যে সমাজে নেতা নেই, সে সমাজে আন্দোলন গড়ে ওঠে না। আন্দোলন
না হলে বিপ্লবও হয়না। বিপ্লব না হলে মুক্তি
আসে না। সুতরাং সর্ব শেষ পরিনাম সূত্রঃ-শিক্ষা> বুদ্ধি>
বিচারবোধ>সিদ্ধান্ত>নেতৃত্ব> আন্দোলন>বিপ্লব>মুক্তি। এই জন্যই
বৈদিকবাদীরা মূলনিবাসীদের শিক্ষার অধিকার হনন করেছিল। আর হরি-গুরুচাঁদ ঠাকুর তথা
অন্যান মহামানবেরা এটা বুঝতে পেরে শিক্ষা তথা সমাজ জাগরণের কাজ করেছিলেন। এবার আমাদের সিদ্ধান্ত
গ্রহণ করতে হবে আমরা বৈদিকতা থেকে মুক্ত হয়ে মুক্তির সূত্রে
কাজ করবো? না কি মুখে হরি-গুরুচাঁদের নাম নেবো আর তাঁদের নির্দেশিত পথের ধারে কাছেও না গিয়ে বৈদিকতার গোলামী করবো? নিজের স্বার্থে সব আত্মমর্যাদাকে জলাঞ্জলি দিয়ে নিজের জাতি ও সমাজকে
বিকিয়ে দেবো? নির্ণয় নিজেকেই গ্রহণ
করতে হবে।
-জয় হরিচাঁদ। জয় গুরুচাঁদ।

Comments
Post a Comment