Skip to main content

Posts

**গুরুচাঁদ দর্শনে মহাপ্রাণ যোগেন্দ্রনাথ** লেখক- প্রদীপ কুমার বিশ্বাস

  **গুরুচাঁদ দর্শনে মহাপ্রাণ যোগেন্দ্রনাথ** লেখক- প্রদীপ কুমার বিশ্বাস     গুরুচাঁদ ঠাকুর মতুয়া দর্শনের অন্যতম পথিকৃত। মতুয়া দর্শনে (ধর্মে) অনুগত বা বিশ্বাসী মানুষরা মহাপ্রাণ যোগেন্দ্রনাথ মণ্ডলের বিপক্ষে সবথেকে বেশি সমালোচনা বা বিরূপ মন্তব্য করেন। কিন্তু তাঁরা জানেন না মহাপ্রাণ যোগেন্দ্রনাথ ছিলেন গুরুচাঁদ ঠাকুরের শিক্ষা আন্দোলন ও রাজনৈতিক দর্শনের অন্যতম রূপকার। এবিষয়ে অজানা অপ্রকাশিত অথচ সম্পূর্ণভাবে সত্য তুলে না ধরলে মতুয়া মহলে মহাপ্রাণ যোগেন্দ্রনাথ সম্পর্কে ভালো ধারণা বা সম্মান আসবে না। বরিশাল জেলার আগৈলঝাড়া গ্রামের ভেগাই হালদার (ভালো নাম রামনাথ হালদার) ছিলেন গুরুচাঁদ ভক্তদের মধ্যে অন্যতম। ভেগাই হালদার বৈদিক বিভিন্ন তীর্থ পর্যটন করবার পরও তিনি সঠিক পথের দিশা খুঁজে পাচ্ছিলেন না। “শেষ পর্যন্ত তিনি ওড়াকান্দী মতুয়া সাধু বাঘাই হালদার এবং মতুয়া সাধু শশীভূষণের সঙ্গে বারুনী স্নানে আসেন। গুরুচাঁদ ঠাকুরের সঙ্গে সাক্ষাতের পর নবজন্ম প্রাপ্ত হইল। গুরুচাঁদ ঠাকুর ভেগাই হালদারকে নিরক্ষর বালক বালিকাদিগকে শিক্ষাদান , মনুষত্বের বিকাশ সাধন , উদার মানবিক চেতনা লাভ ও আপামর জনসাধরণ...

*হরিনামের রথ* লেখক – জগদীশচন্দ্র রায়

                                                                                                                              * হরিনামের রথ* লেখক – জগদীশচন্দ্র রায় মতুয়াদের মধ্যেও ‘রথ’ এর সংস্কৃতির নিদর্শন খুঁজে পাচ্ছি। লিখিত নয় , সামাজিকভাবে প্রচলিত। তবে এই রথ বৈদিক মতের তিথি অনুসারে চালানো হলেও এর মাহাত্ত্ব কিন্তু বৈদিক নয়। আসুন এ সম্পর্কে কিছু আলোকপাত করা যাক।      প্রথমেই জানাই , বাংলাদেশের Jagoran Patrika - এর সম্পাদক ও মতুয়া গবেষক Shashanka Bar মহাশয় এই বিষয়ে তাঁর টিম নিয়ে অনুসন্ধান করতে গিয়ে খোঁজ পেয়েছেন – ‘বাংলাদেশের গোপালগঞ্জ জেলার শ্রীপুর গ্রামে দশরথ বর (বিশ্বাস) নামে একজন মহা হরিভক্ত বাস করতেন। একদিন তিনি তাঁর প্রাণের ঠাকুর হরিচাঁদক...

মতুয়া নামের উৎপত্তি। লেখক – জগদীশ রায়

  মতুয়া নামের উৎপত্তি (১) লেখক – জগদীশ রায় শ্রীশ্রীহরিলীলামৃত -এর ৬৬ পৃষ্ঠায় “ভক্তগণের মতুয়া খ্যাতিববরণ”(১ম সংস্করণ) -এ দেখতে পাই,   ওঢ়াকাঁদি রাউৎখামার মল্লকাঁদি।    ভ্রমণ করেন হরিচাঁদ গুণনিধি।।    সঙ্গে ভক্তগণ ফিরে পরম আনন্দে।    নাম সংকীর্ত্তন গান হ’তেছে স্বচ্ছন্দে।।   হেন কালে তিন জন ব্রাহ্মণ আসিল। সভামধ্যে আসিয়া তাহারা দাণ্ডাইল।। সবে বলে বসুন বিছানা আছে অই। তারা বলে হরিচাঁদ প্রভু তিনি কই।। (শ্রীশ্রীহরিলীলামৃত ১ম সংস্করণ পৃ. ৬৭) এরকম সময় তিন জন ব্রাহ্মণ সভায় উপস্থিত হয়। তারা জানতে চায় ‘ঠাকুর’ কে ? সভার লোকেরা ঠাকুরকে দেখিয়ে দেয়। কিন্তু এই তিনি জনের কেউই ঠাকুরকে প্রণাম করছে না দেখে সভার থেকে বলা হয় যে, ‘ঠাকুর দেখিলে পরে প্রণামিতে হয়।’ তারপর এক এক করে দুজনে প্রণাম করে। কিন্তু অন্য জন্য দাঁড়িয়েই থাকে। তখন তার ঘাড় ধরে জোর করে প্রণাম করতে বাধ্য করানো হয়। কিন্তু এই ঘটনা দেখে – ‘ সভাসদ বিপ্র যত রাগান্বিত হ’ল।’ আর এই খবর জানার পর গ্রামের অনেক লোকই রেগে যায়। তখন তারা ঠাকুরের সম্পর্কে বিভিন্ন কটু কথা বলতে শুরু করে। তারা বলে ...

বহুজন সমাজ কেন একতা বদ্ধ হতে পারছে না? কী করলে সংঘবদ্ধ হওয়া যাবে? লেখক – জগদীশ রায়

  বহুজন সমাজ কেন একতা বদ্ধ হতে পারছে না? কী করলে সংঘবদ্ধ হওয়া যাবে? লেখক – জগদীশ রায় বুদ্ধিহীন সরলতা       আর নাহি চলে হেথা                           কূট-বুদ্ধি বটে দরকার । (গুরুচাঁদ চরিত পৃ.৪৪৩) সমাজ আজ দিশা হীন। যেদিকেই হাত দেওয়া হচ্ছে সেদিকেই বর্ণবাদীদের কূটচক্রে পরাস্ত হচ্ছে। সমাজে গতানুগতিকতা দিয়ে সব সময় চলে না। পরিস্থিতির উপর নজর রেখে প্রয়োজনী পদক্ষেপের দরকার। তার জন্য দরকার ‘কূট-বুদ্ধির’। আপনার শত্রু সব সময় চাইবে আপনার অস্ত্রদিয়ে আপনাকেই ঘায়েল করতে। যার উদাহরণ প্রতিনিয়ত চোখে পড়ছে। তো এই সমস্যা থেকে উদ্ধার পেতে হলে আরো দরকার- শক্তি না দেখিলে কেউ করে না সম্মান। শক্তিশালী হ’তে সবে হও যত্ন বান।। (গুরুচাঁদ চরিত পৃ. ৫৭৩) হ্যাঁ আপনাকে প্রতিনিয়ত সংগ্রাম করে বেঁচে থাকতে হবে। তার জন্য প্রয়োজন শক্তিশালী হওয়া। শক্তির প্রদর্শন করা। এটাই অন্যতম পথ। আর এই শক্তি প্রদর্শনের জন্য অবশ্যই দরকার- যে জাতির দল নাই, সে জাতির বল না...