Skip to main content

Posts

প্রকৃত ঈশ্বর বা ভগবান কে? লেখক- জগদীশ রায়

প্রকৃত ঈশ্বর বা ভগবান কে? লেখক- জগদীশ রায় আমরা এমন কথা দেখতে পাই, ‘যে যাহারে ভক্তি করে সে তার ঈশ্বর’ প্রশ্ন আশে আপনি কাকে ‘ভক্তি’ করেন? কেন?   আপনি তাঁকেই ‘ভক্তি’ বা শ্রদ্ধা করবেন, যিনি আপনার মঙ্গল করবেন। আপনার সমস্যার সমাধান করবেন। আপনার সুখ দুঃখের সাথী হবেন।     না কি তাঁকে ‘ভক্তি’ করবেন যার অস্তিত্ত্বের উপরই বড় প্রশ্ন আসে। যিনি অলীক। যাকে নিয়ে ধর্মীয় ব্যবসা হয়?      আবার দেখা যায়- ‘বিশ্বভরে এই নীতি দেখি পরস্পর। যে যা’রে উদ্ধার করে সে তার ঈশ্বর।। কী বলা হয়েছে? সারা বিশ্বজুড়ে একটা নীতি দেখা যায়। প্রশ্ন হচ্ছে কী সেই নীতি? নীতিটি হচ্ছে, যে যারে উদ্ধার করে সেই তার ঈশ্বর।       তাহলে একবার ভাবুনতো আপনাকে বা আপনার সমাজকে কে বা কাঁরা বিভিন্ন অসমতা থেকে উদ্ধার করে এবং আপনাকে পশুর থেকে মানুষের মর্যাদা দিয়ে আপনার জন্য সমানতা   ফিরিয়ে দেবার কাজ করেছেন? আপনার অধিকারের জন্য সংগ্রাম করেছেন।     তবে প্রশ্ন হচ্ছে আপনি কী বুঝতে পেরেছেন যে, আপনি বা আপনার সমাজ অসমানতার অন্ধকার...

নমঃশূদ্রদের পূর্বপুরুষেরা বৌদ্ধধম্মাবল্মবী ছিলেন- গুরুচাঁদ ঠাকুর

   নমঃশূদ্রদের পূর্বপুরুষেরা বৌদ্ধধম্মাবল্মবী ছিলেন- গুরুচাঁদ ঠাকুর   মতুয়া ধর্মের আকর গ্রন্থ হরিলীলামৃতে আমরা দেখতে পাই- বুদ্ধের কামনা তাহা পরিপূর্ণ জন্য। যশোমন্ত গ্রহে হরি হৈল অবতীর্ণ।। পৃ. ১৫ আবার একই ধরণের কথার উল্লেখ দেখতে পাই গুরুচাঁদ চরিতেও - গৃহিরে করিতে শুদ্ধ    ওড়াকান্দী হরি-বুদ্ধ         আসিয়াছে বহু যুগ পরে। গুরচাঁদ চরিত পৃ.৫০১ উপরের এই কথাকে ভিত্তি করে আমরা জানতে পারি যে, নমঃশূদ্রদের পূর্বপুরুষেরা বুদ্ধধম্মাবলম্বী ছিলেন। যে কথা গুরুচাঁদ ঠাকুর ১৮৮১ সালে দত্তডাঙার শ্রদ্ধানুষ্ঠানে বলেছিলেন। নমঃশূদ্র কবে হল    পূর্ব্বে তারা কিবা ছিল   সংক্ষেপেতে সেই কথা বলিব সভায়। গুরুচাঁদ চরিত পৃ. ১২৩ একদা ভারত খণ্ডে       আসিয়া উত্তর বঙ্গে          রাজার আলয় জন্মে জ্ঞান-অবতার। বুদ্ধ নামে পরিচিত        করিলেন জীব-হিত।          ভেদাভেদ ভুলি সবে হল একা...

বুদ্ধ – হরিচাঁদ ও গুরুচাঁদ ঠাকুরের দর্শনের সমন্বয়। লেখক -জগদীশচন্দ্র রায়

বুদ্ধ – হরিচাঁদ ও গুরুচাঁদ ঠাকুরের দর্শনের সমন্বয়                                           লেখক -জগদীশচন্দ্র রায়      ১. “বুদ্ধ” শব্দের অর্থ লব্ধ-জ্ঞান। ----অবিদ্যার ধ্বংসই দুঃখমোচনের একমাত্র উপায়—এই   মহাতত্ত্ব তিনি (বুদ্ধ) উপলব্ধি করিলেন। পৃথিবীর যত দুঃখ তাহা এই অবিদ্যার ডালপালা হইতে জাত; অবিদ্যা-তরুর ক্রমবিকাশ এইরূপ; অবিদ্যা হইতে সংস্কার, সংস্কার হইতে বিজ্ঞান, বিজ্ঞান হইতে নামরূপ, নামরূপ হইতে ষড়ায়তন, ষড়ায়তন হইতে স্পর্শ, স্পর্শ হইতে বেদনা, বেদনা হইতে তৃষ্ণা, তৃষ্ণা হইতে উপাদান, উপাদান হইতে ভব, ভব হইতে জাতি, জাতি হইতে জরামৃত্যু, শোক, পরিদেব, দৌমনস্য, উপায়নের উৎপত্তি হইয়া থাকে। আত্যন্তিক দুঃখের মূল কারণ অবিদ্যা।        “অবিদ্যা ধ্বংসের আটটি উপায় গৌতম বুদ্ধ নির্দেশ করেছেন-সম্যক, দৃষ্টি, সম্যক সঙ্কল্প, সম্যক   বাক্‌, সম্যক্‌ কর...

*মতুয়া জ্ঞানের ধর্ম না ভক্তির ধর্ম* লেখক -জগদীশচন্দ্র রায়

*মতুয়া জ্ঞানের ধর্ম না ভক্তির ধর্ম* লেখক -জগদীশচন্দ্র রায়   মতুয়া ধর্ম, সত্য প্রেম পবিত্রতার ধর্ম। মতুয়া ধর্ম অশিক্ষার অন্ধকার থেকে আলোর দিশার ধর্ম। মতুয়া ধর্ম অবশ্যই জ্ঞানের ধর্ম। ধ্যানের মাধ্যমে জ্ঞানকে বিজ্ঞানে উন্নিত করার ধর্ম। মতুয়া ধর্ম এক সামাজিক বিপ্লবের ধর্ম। মতুয়া ধর্ম সমস্ত কুসংস্কারের বিরুদ্ধে সংগ্রামের ধর্ম। সমস্ত জাতি-ধর্ম ও বর্ণবাদের উপর প্রতিবাদের ধর্ম। মতুয়া ধর্ম অধিকার প্রতিষ্ঠার ধর্ম। নারী-পুরুষের সমানতার ধর্ম। মতুয়া ধর্ম জীবে দয়ার ধর্ম। সকল মানুষের প্রতি নিষ্ঠার ধর্ম। নামের প্রতি রুচির ধর্ম। বাকী সব ভ্রষ্ট বলার ধর্ম। মতুয়া ধর্মে -না মানিবে শিব দুর্গা কৃষ্ণ প্রেমে বাম। মতুয়া ধর্ম বেদবিধি শৌচাচার না মানার ধর্ম। মতুয়া ধর্ম হাতে কাম ও মুখে নামের ধর্ম। মতুয়া ধর্ম পরনারীকে মাতৃজ্ঞান করার ধর্ম। মতুয়া ধর্ম সত্যের ধর্ম, সৎ চরিত্রের ধর্ম। পর দুঃখে দুঃখী হওয়া ধর্ম। মতুয়া ধর্ম মুক্তি স্পৃহা শূন্য সাধন ভজন হীনতার ধর্ম। মতুয়া ধর্ম দেহের ঈন্দ্রীয় সংযমের ধর্ম। মতুয়া ধর্ম বিভিন্ন জাতি-ধর্ম ও বর্ণের মিলনের ধর্ম। ...

হরিচাঁদ ঠাকুর স্মরণে

*হরিচাঁদ ঠাকুর স্মরণে*  (১১ মার্চ হরিচাঁদ ঠাকুরের জন্মদিন উপলক্ষ্যে ‘হরিচাঁদ ঠাকুরের সমাজ সংস্কার ও সাম্যবাদী দর্শন’ -লেখক- প্রদীপ কুমার বিশ্বাস, -এর ৬৯-৭১ পৃষ্টা থেকে তুলে ধরলাম)   গৃহধর্মে সু-আদর্শ সব দে’য়া হ’ল। দেহগৃহ শুচিকার্য্য জীবে কি বুঝিল? দেহমন নহে শুচি গৃহধর্ম্ম করে। ছিদ্রযুক্ত তরী সম ডুবে যে সাগরে।। দেহমন সর্ব্বক্ষণ রাখিতে পবিত্র। শিখাইতে হবে জীবে সেই মূলসূত্র।।                                                                                                                  (শ্রীশ্রীহরিলীলামৃত পৃ.৭৩, দশম সংস্করণ)        সুমহান গৃহধর্মের সমস্ত আদর্শের কথা হরিচাঁদ ঠাকুর বলেছেন। তবু হরিচাঁদ ঠাকুর আক্ষেপ করে বা মনের দুঃখে বললেন, গৃহধর্ম ও ব্যক...

যে মতুয়ারা, ‘জন্মগত জাতিকথা কয় না’ সেই মতুয়া- জনক হরি-গুরুচাঁদের গলায়, ‘ব্রাহ্মণ’ – জাতের জুতোর মালা কেন পরাই? লেখক – স্বপন কুমার বিশ্বাস

 যে মতুয়ারা, ‘জন্মগত জাতিকথা কয় না’ সেই মতুয়া- জনক হরি-গুরুচাঁদের গলায়, ‘ব্রাহ্মণ’ – জাতের জুতোর মালা কেন পরাই?        লেখক – স্বপন কুমার বিশ্বাস (বই- হরি-গুরুচাঁদ   বাঙলার চণ্ডাল ও ভারতবর্ষের অভ্যুত্থান পৃষ্ঠা ক্রমাঙ্ক ৬০ থেকে ৬৫) ---- একদল নমঃশূদ্র নিজেদের ব্রাহ্মণ বলে পরিচিত করানোর চেষ্টা করে। তাতেই তারা আনন্দ পায়। কেন? একি কেবল হীনমন্যতা প্রসূত পলায়ন মনবৃত্তি না ঐতিহাসিক তত্ত্ব ভিত্তিক সত্য? হরিচাঁদ বেদ, ব্রাহ্মণ মানেননি। সমাজ পরিবর্তনের আন্দোলন ও বৈপ্লবিক আধ্যাত্মিক আন্দোলনের মাধ্যমে তিনি জাতিভেদ ব্যবস্থার বিলোপ করার সাধনা করেছেন। সেক্ষেত্রে তাঁকে কিংবা তাঁর পরিবার বা বংশকে এবং সর্বশেষে, সমগ্র চণ্ডাল তথা নমঃশূদ্র জাতিকে ব্রাহ্মণ হিসাবে প্রতিপন্ন করার চেষ্টা যে কত বড় অপপ্রচেষ্টা তা নির্ণয় করাও কঠিন।    চণ্ডাল জাতির কিছু সম্পন্ন মানুষ সামাজিক মর্যাদা অর্জনের জন্য চেষ্টা চালান। এর জন্য তৎকালে তাদের সামনে দুটি মাত্র পথ খোলা ছিল, প্রথমতঃ ধর্মান্তরিত মুসলমান হওয়া দ্বিতীয়তঃ হিন্দুদের মাঝে হিন্দু ব্রাহ্মণ সমাজপতিদের দ্বারা গ্রহণযোগ...