Skip to main content

Posts

যে মতুয়ারা, ‘জন্মগত জাতিকথা কয় না’ সেই মতুয়া- জনক হরি-গুরুচাঁদের গলায়, ‘ব্রাহ্মণ’ – জাতের জুতোর মালা কেন পরাই? লেখক – স্বপন কুমার বিশ্বাস

 যে মতুয়ারা, ‘জন্মগত জাতিকথা কয় না’ সেই মতুয়া- জনক হরি-গুরুচাঁদের গলায়, ‘ব্রাহ্মণ’ – জাতের জুতোর মালা কেন পরাই?        লেখক – স্বপন কুমার বিশ্বাস (বই- হরি-গুরুচাঁদ   বাঙলার চণ্ডাল ও ভারতবর্ষের অভ্যুত্থান পৃষ্ঠা ক্রমাঙ্ক ৬০ থেকে ৬৫) ---- একদল নমঃশূদ্র নিজেদের ব্রাহ্মণ বলে পরিচিত করানোর চেষ্টা করে। তাতেই তারা আনন্দ পায়। কেন? একি কেবল হীনমন্যতা প্রসূত পলায়ন মনবৃত্তি না ঐতিহাসিক তত্ত্ব ভিত্তিক সত্য? হরিচাঁদ বেদ, ব্রাহ্মণ মানেননি। সমাজ পরিবর্তনের আন্দোলন ও বৈপ্লবিক আধ্যাত্মিক আন্দোলনের মাধ্যমে তিনি জাতিভেদ ব্যবস্থার বিলোপ করার সাধনা করেছেন। সেক্ষেত্রে তাঁকে কিংবা তাঁর পরিবার বা বংশকে এবং সর্বশেষে, সমগ্র চণ্ডাল তথা নমঃশূদ্র জাতিকে ব্রাহ্মণ হিসাবে প্রতিপন্ন করার চেষ্টা যে কত বড় অপপ্রচেষ্টা তা নির্ণয় করাও কঠিন।    চণ্ডাল জাতির কিছু সম্পন্ন মানুষ সামাজিক মর্যাদা অর্জনের জন্য চেষ্টা চালান। এর জন্য তৎকালে তাদের সামনে দুটি মাত্র পথ খোলা ছিল, প্রথমতঃ ধর্মান্তরিত মুসলমান হওয়া দ্বিতীয়তঃ হিন্দুদের মাঝে হিন্দু ব্রাহ্মণ সমাজপতিদের দ্বারা গ্রহণযোগ...

মতুয়া পতাকার আদর্শ ও বিকৃত করণ। লেখক-জগদীশচন্দ্র রায়

*‘মতুয়া পতাকার আদর্শ ও বিকৃত করণ*   জগদীশচন্দ্র রায় (বিষয়টি সম্পর্কে পাঠকগণ গঠনমূলক আলোচনা/সমালোচনা করবেন)     কোনো দেশের পতাকা যেমন জাতীয় গৌরব। তেমনি কোনো সমাজ , ধৰ্ম , সংগঠন ইত্যাদিরও  সম্মানের প্রতীক পতাকা। সেই পতাকার সঙ্গে অন্যকিছু রাখা যেমন অপমান তেমনি পতাকার রঙ বদালোও সম অপমান। আর এই পতাকা নিয়ে যদি অবমাননার কাজ চলতে থাকে, তাহলে বুঝতে হবে, সেই আদর্শেরও চরম অপমান।   মতুয়াধর্মের পতাকা ত্রিকোণ , মাঝখানে গাড় লাল । তিন পাশে সাদা বেড়ি । এই তিন কোণ হচ্ছে- সত্য, প্রেম ও পবিত্রতার প্রতীক। পতাকার মাঝখানে আছে গাড় লাল। যেটা বিপ্লবের প্রতীক। আর পাশের সাদা বেড়ি হচ্ছে-শান্তির প্রতীক। অর্থাৎ বিপ্লব করতে হবে তবে উগ্র ভাবে নয় , শান্তিপূর্ণ অবস্থায়। তাই মতুয়াধর্ম শুধুমাত্র একটা ধর্ম নয়। এটা একটা আন্দোলন বা বিপ্লবের দিশা নির্দেশ।  প্রশ্ন আসে কোন দিশা? কিসের বিরুদ্ধে আন্দোলন বা বিপ্লব? সেটা  হচ্ছে- সুন্দর সমাজ গঠনের দিশা। সমাজে শিক্ষার মাধ্যমে জ্ঞানের আলোর বিস্তার ঘটানোর আন্দোলন । কুসংস্কার থেকে মুক্ত হওয়ার জন্য আন্দোলন । দেশ ও সমাজের প্রগতির দিশা...

বিষয়ঃ- বাংলায় সাম্যবাদী ব্যবস্থা প্রতিষ্ঠিত করার ক্ষেত্রে হরিচাঁদ ঠাকুর, গুরুচাঁদ ঠাকুর (মতুয়া ধর্ম) ও মহাপ্রাণ যোগেন্দ্রনাথ মন্ডলের অবদান। লেখক- জগদীশচন্দ্র রায়

বিষয়ঃ- বাংলায় সাম্যবাদী ব্যবস্থা প্রতিষ্ঠিত করার ক্ষেত্রে হরিচাঁদ ঠাকুর, গুরুচাঁদ ঠাকুর (মতুয়া ধর্ম) ও মহাপ্রাণ যোগেন্দ্রনাথ মন্ডলের অবদান। লেখক- জগদীশচন্দ্র রায়  

মতুয়া ধর্ম দর্শন এবং ‘সোঁটা’ লেখক – প্রদীপকুমার বিশ্বাস

মতুয়া ধর্ম দর্শন এবং ‘সোঁটা’ লেখক – প্রদীপকুমার বিশ্বাস     মতুয়া দর্শনে নিশান, নিশানকে ধারন করবার কুড়া বা সড়কি,

মতুয়া দর্শনের প্রতীক ও অশোক স্তম্ভ লেখক – প্রদীপ কুমার বিশ্বাস

মতুয়া দর্শনের প্রতীক ও অশোক স্তম্ভ লেখক – প্রদীপ কুমার বিশ্বাস      একই সঙ্গে মতুয়া দর্শনের প্রতীক ও অশোক স্তম্ভের তুলনা

ঈশ্বরে ব্যাখ্যা ও গুরুচাঁদ ঠাকুর। তিনি কোন ঈশ্বরের পূজা করতে বলেছেন? লেখক –জগদীশচন্দ্র রায়

ঈশ্বরে ব্যাখ্যা ও গুরুচাঁদ ঠাকুর। তিনি কোন ঈশ্বরের পূজা করতে বলেছেন? লেখক –জগদীশচন্দ্র রায়       ১৯০৮ খ্রিষ্টাব্দের ২৬ অক্টোবর, গুরুচাঁদ ঠাকুরের উপস্থিতিতে    লক্ষ্মীখালীতে বিভিন্ন জ্ঞানী-গুণীজনদের নিয়ে এক বিরাট জাগরণী সভা হয়। সেই সভায় – প্রভু বলে “শোন সবে নমঃশূদ্রগণ। ধর্ম্ম শক্তি বিনা জাতি জাগেনা কখন।। (গু. চ.পৃঃ ৫২৯) তিনি নমঃশূদ্রদের জানান,  জাতিকে জাগাতে হলে ধর্ম্মের শক্তির দরকার আছে। এই শক্তির    মাধ্যমেই মানুষকে একতাবদ্ধ করা যাবে। তবে তিনি ধর্মকে হাতিয়ার হিসাবে গ্রহণ করলেও ধর্ম বিশ্বাসের উপর নির্ভর করেননি। মানুষকে জাগ্রত করার শিক্ষার মধ্যে নিয়ে যাবার জন্য, বৈষম্য দূর করার জন্য ধর্মকে এক ধরনের ভাষা অর্থাৎ প্রকাশের মাধ্যম হিসাবে গ্রহণ করেছিলেন। মতুয়াদেরকে কাঁর পূজা করতে হবে আর কার পূজা করবেনা; সে  বিষয়ে তিনি এক অমোঘ বাণী  দেন। যে বাণীকে প্রত্যেক মতুয়া অনুরাগীদের ভেবে দেখা দরকার। দেবতা-মন্দির সবে গড়’ ঘরে ঘরে। নিত্য পূজা কর সেথা সরল অন্তরে।। এইখানে আমি বলি’ এক সমাচার। দেবতা-মন্দিরে পূজা করিবে কাহার? বিশ্বভরে এই নীতি দেখ...

গুরুচাঁদ ঠাকুরের শিক্ষা আন্দোলন সম্পর্কে অধ্যাপিকা ডঃ দেবী চ্যাটার্জীর বিশ্লেষণের এক ঝলকঃ-

গুরুচাঁদ ঠাকুরের শিক্ষা আন্দোলন সম্পর্কে অধ্যাপিকা ডঃ দেবী চ্যাটার্জীর বিশ্লেষণের   এক ঝলকঃ-     গুরুচাঁদ ঠাকুরের কথা যখন বলি, তখন শুধুমাত্র একজন মানুষের কথা বলি না, একটা ইতিহাসের কথা বলি, একটা সমাজ ব্যবস্থার কথা বলি, সেই সমাজ ব্যবস্থাটার বিরুদ্ধে একটা   প্রতিবাদী আন্দোলনের কথা বলি, প্রতিবাদের ভাষার কথা বলি, ভবিষ্যতের একটা স্বপ্নের কথা বলি।    মানুষকে যখন দাবিয়ে রাখতে হয় তখন তাকে শিক্ষা থেকে বঞ্চিত রাখা হয়। শিক্ষার সুযোগ যাতে না পায় তার জন্য আমাদের দেশে এটা করা হোল একদম ধর্মের সঙ্গে মিশিয়ে দিয়ে। অস্পৃশ্য শূদ্রদের ধর্মে শিক্ষা গ্রহণ নিষিদ্ধ করা হল –আর এটা করা হল যাতে তারা শিক্ষার সুযোগ না পায়।       শিক্ষার অধিকারটা মেয়েদেরও দেওয়া হল না। তাহলে শিক্ষা থেকে বাদ দেওয়া হল কাদের?   বাদ দেওয়া হল শূদ্রদের, বাদ দেওয়া হল মেয়েদের। এরা কারা? যারা সমাজকে টিকিয়ে রাখার জন্য শ্রমটা দেবেন। তাদের শ্রম কারা নেবে –উঁচু জাতির মানুষরা নেবেন। তারা শিক্ষালাভ করবেন। আর তারা শ্রম দেবেন না। এখানেও নিষেধাজ্ঞা রইল। নীচুজাতের মানুষের শ...

তুমি স্থূল আমি সূক্ষ্ম উভয়ে অভিন্ন। দেহ আত্মা মোরা দোঁহে মূলে নহি ভিন্ন।। -- (লীলামৃত, ঠাকুরনগর প্রকাশ ২০০৯ পৃষ্ঠা নং- ৭৩)

তুমি স্থূল আমি সূক্ষ্ম উভয়ে অভিন্ন।      দেহ আত্মা মোরা দোঁহে মূলে নহি ভিন্ন।।                                             ( লীলামৃত , ঠাকুরনগর প্রকাশ ২০০৯ পৃষ্ঠা নং- ৭৩)     অর্থাৎ ‘ তুমি ’   হচ্ছে এখানে আমার শরীর।   এই শরীরটা হচ্ছে স্থূল। ‘ স্থূল ’   অর্থাৎ বড় কায়া বা অবয়ব , আর আমি হচ্ছে এখানে আমার এই দেহের ভিতরের ‘ চেতনা শক্তি ’ ।   যাকে আত্মারূপে তুলে ধরা হয়েছে। এই আত্মা হচ্ছে সূক্ষ্ম। আর এই দেহ এবং আত্মা একে অপরের সঙ্গে সম্পৃক্ত। একের সঙ্গে অন্যটা মিশে আছে। দেহ বিনা আত্মার অস্তিত্ত্ব সম্ভব নয়। যার ফলে দেহের মৃত্যুর সঙ্গে সঙ্গে আত্মারও মৃত্যু ঘটে। দেহের বাইরে আত্মার অস্তিত্ত্ব বলে কিছু নেই। তবে একটা প্রদীপ থেকে যেমন অসংখ্য প্রদীপ জ্বালানো যায় ; তেমনি প্রজনন প্রক্রিয়ার মাধ্যমে একের বিনাশের সঙ্গে সঙ্গ...