Skip to main content

Posts

“ব্রাহ্মণের স্বার্থ তরে শাস্ত্র লেখে তারা/ শাস্ত্রের বিধান মানে অব্রাহ্মণ যারা।-গুরুচাঁদ ঠাকুর

এতদ শাস্ত্র বিষয়ে একটি ঘটনা মনোহর রায়ের পান্ডুলিপিতে ধরা পড়েছে। ওড়াকান্দির নিকটে বহুগ্রামের মহাজন শ্রীআনন্দ মজুমদারের বাড়ীতে দানসাগর যজ্ঞ অনুষ্ঠানে নিমন্ত্রিত গুরুচাঁদ ঠাকুর পার্ষদবর্গ নিয়ে উপস্থিত ছিলেন। ব্রাহ্মণ পরিবেষ্টিত সেই অনুষ্ঠানে ব্রাহ্মণ্য শাস্ত্র সম্বন্ধে গুরুচাঁদ ভক্ত শ্রী চন্ডীচরণ রায়ের বক্তব্য শুনুনঃ-(নির্দেশ গুরুচাঁদ ঠাকুরের) “ব্রাহ্মণের স্বার্থ তরে শাস্ত্র লেখে তারা                            শাস্ত্রের বিধান মানে অব্রাহ্মণ যারা।                            দেবদেবী পূজা করে সব হিন্দুগণ                            হয়না তাদের পূজা ব্যতীত ব্রাহ্মণ ।      ...

বিদ্রোহী বালক হরিচাঁদ

বিদ্রোহী বালক হরিচাঁদ     হরিচাঁদের পিতা যশোমন্ত পরম বৈষ্ণব ভক্ত ছিলেন। সংসারে অনেক অভাব অনটন থাকা  সত্বেও কোন বৈষ্ণবের সেবা না করে নিজে আহার গ্রহণ করতেন না। হরিচাঁদ ছাড়া বাকি ভাইয়েরাও পিতার মত বৈষ্ণব ভক্ত হয়ে উঠেছিলেন। হরিদাস ছাড়া বাকি পুত্র ছিল যতো।   বৈষ্ণব দেখিলে সবে হইত পদে নতো।।                                                        ( হরিচাঁদ তত্ত্বামৃত পৃষ্ঠা নং- 258) তাই বৈষ্ণব দেখ্‌লেই বাকি ভাইয়েরা ভক্তিতে গদগদ হয়ে তাঁদের পায়ে পড়তেন। কিন্তু সমস্যা  দেখা দেয় হরিচাঁদকে নিয়ে। পিতার আদেশে সেবা করে ভাই চারি। হরিচাঁদে নিয়ে বটে গোলযোগ ভারী।।                        ...

আত্ম অনুভুতি ও আত্ম দর্শন

আত্ম অনুভুতি ও আত্ম দর্শন    শৈশব কৈশোর অতিক্রান্ত করে হরিচাঁদ যৌবনে পদার্পন করেছেন। তাই শৈশবে তাঁর মধ্যে যে বিদ্রোহী ও প্রতিবাদী চেতনার প্রকাশ পাওয়া গিয়েছিল, সেই চেতনার গভীরতা ধীরে ধীরে বৃদ্ধি পাচ্ছে।        সংসার জীবন আজ তিনি অতিক্রম করতে চলেছেন। কারণ তাঁর দুই পুত্র ও তিন কন্যা  হয়েছে। যার মধ্যে গুরুচাঁদ সব চেয়ে বড়। অন্যান্য ভাইদের অনুরোধে আমভিটার বসবাস স্থল ছেড়ে দিয়ে ওড়াকান্দীর পোদ্দার বাড়িতে এসে বসবাস শুরু করেছেন। কিন্তু এখন তাঁর অন্তরের মধ্যে প্রায়ই কি যেন ভাবনা ঘুরপাক খায় নিরন্তর। যার জন্য তিনি উদাস হয়ে থাকেন। এই উদাস ভাবনা বা একাকিত্বে কিছু চিন্তা বা মন্থন করা শুরু হয়েছিল ছোট বেলা থেকে।     একবার তিনি শৈশবে তাঁদের বাড়ির পাশের বড় নিমগাছের নীচে চোখ বন্ধ করে ধ্যানে বসে ছিলেন।   শৈশবেতে সকলের চক্ষু দিয়ে ফাঁকি। বৃক্ষ তলে হরিচাঁদ বসিত একাকী।। ভ্রাতাসহ সাঙ্গপাঙ্গ করে যবে খেলা। হরিচাঁদ বসে থাকে নীরবে একেলা।। ধ্যানাসনে বসে থাকে মুদি অক্ষিদ্বয়। হৃদয়েতে হয় কত ভাবের উদয়।।     ...

লোকায়ত ইতিহাস থেকে সত্যের অনুসন্ধান

লোকায়ত ইতিহাস থেকে  সত্যের অনুসন্ধান     শৈবকাল থেকেই হরিচাঁদের চিন্তা-ভাবনা, ক্রিয়া-কর্ম, চলন-বলন সব কিছুই অন্যের থেকে  পৃথক মনে হ’ত। প্রায়ই মনে হ’ত তিনি যেন কোন গভীর ভাবনার মধ্যে ডুবে আছেন। বয়ষ্ক   লোকদের কাছে গিয়ে বিভিন্ন প্রশ্ন করতেন । কিন্তু তিনি যেটা খুঁজছিলেন, তার অনুসন্ধান বেশীরভাগ লোকই দিতে পারতেন না। যদিও অতীতের অনেক ইতিহাস গল্পাকারে লুকিয়ে আছে মানুষের মধ্যে। তবুও তিনি খুঁজে ফেরেন তার আখাংকিত তথের সন্ধানে ।        গ্রাম্য বাংলায় একটা প্রবাদ মানুষের মুখে মুখে ঘুরে বেড়ায়। বিশেষ করে ছোট বেলায় বাচ্চারা খেলার ছলে কখনও কোন শাপ দেখলেই মারত। আর সেটা যদি মেটে শাপ হয় তাহলে তো আর  কোন কথাই নেই। কারণ এই মেটে শাপের কোন বিষ নেই। তাই এই শাপ মারার সময় সকলে মিলে গান করত- কলির বাওন মেটে শাপ।    যে না মারে তার হয় পাপ।। অর্থাৎ কলিকালের বামনরা হচ্ছে মেটে শাপের মত। কারণ এদের কোন বিষ নেই। এরা মানুষকে যে দেব-দেবীর ভয় দেখায়, আসলে সে সব মিথ্যা। ভন্ডামী। বাস্তবের সঙ্গে তার কোন সম্পর্ক নেই;  বুদ্ধিমান মানুষেরা এটা...