Skip to main content

Posts

হরিলীমৃতে অলৌকিকতার প্রাসঙ্গিকতা -*সুষেণ বিশ্বাস*

হরিলীমৃতে অলৌকিকতার প্রাসঙ্গিকতা * সুষেণ বিশ্বাস * জয় হরিচাঁদ , জয় গুরুচাঁদ। মঞ্চে উপবিষ্ট গুণীজন , সামনে বসে আছেন বিজ্ঞজন। মা , বাবা , ভাই , বোন  প্রত্যেককে আমার শ্রদ্ধা ভালবাসা জানাই। শ্রীশ্রীহরি লীলামৃতে অলৌকিকতার প্রাসঙ্গিকতা- এই বিষয়ে আমার বক্তব্য। আমরা আলোচনার আগে বুঝেনেব বৈদিক এবং অবৈদিক প্রসংগ। বৈদিক- প্রধানতঃ বেদকে আশ্রয় করে যে অমানবিক অবৈজ্ঞানিক  অলৌকিক কাহিনি গাথা , সেটা হচ্ছে বৈদিক। যেখানে একটা  ভগবান থাকবে , তিনি সর্ব শক্তিমান , অসংখ্য দেব-দেবী থাকবে। অনেক অবতার পুরুষ থাকবেন। জন্মান্তরবাদ থাকবে। সেখানে ইনিয়ে বিনিয়ে গল্প কথা থাকবে। একটা শোষণের ধর্ম। এটা বৈদিক।   তাহলে অবৈদিক ? অবৈদিক ধর্মদর্শন বিজ্ঞানের উপর নির্ভর করে গড়ে উঠেছে। অত্যন্ত মানবিক , বিজ্ঞান ভিত্তিক , পরিসুদ্ধ একটি ধর্ম , যা মানব জীবনকে ক্রমশঃ উন্নতির দিকে নিয়ে যায় , প্রগতির দিকে নিয়ে যায়। যেখানে একটা সর্বশক্তিমান ঈশ্বর নেই। তেত্রিশ কোটি দেবতা নেই। অবতার পুরুষ নেই। জন্মান্তরবাদ নেই। আত্মার অস্তিত্ত্ব নেই। এমন একটা ধর্ম দর্শন হচ্ছে অবৈদিক ধর্মদর্শন।     কবি চুড়ামণ...

মতুয়াধর্ম কি স্বাধীন-স্বনিয়ন্ত্রিত কোন স্বতন্ত্র ধর্ম, নাকি হিন্দুধর্মের কোন শাখা-প্রশাখা?

  মতুয়াধর্ম কি স্বাধীন-স্বনিয়ন্ত্রিত কোন স্বতন্ত্র ধর্ম , নাকি হিন্দুধর্মের কোন শাখা-প্রশাখা ? অথবা    হরিচাঁদের দর্শন কি অবৈদিক দর্শন , নাকি তিনি বৈদিক দর্শনের ধারক ছিলেন ? বইঃ-   প্রশ্নোত্তরে মতুয়া দর্শন ;   বইটির লেখকঃ- ডাঃ মণীন্দ্রনাথ বিশ্বাস(মনু) এখানে এই বইয়ের নানান আলোচনার মধ্য থেকে একটি আলোচনাকে এই পোস্টে সাজিয়ে উপস্থাপন করা হয়েছে । বইঃ- প্রশ্নত্তোরে মতুয়া দর্শন // লেখকঃ- ডাঃ মণীন্দ্রনাথ বিশ্বাস(মনু) বিষয় বা প্রশ্নঃ- মতুয়াধর্ম কি স্বাধীন-স্বনিয়ন্ত্রিত কোন স্বতন্ত্র ধর্ম , নাকি হিন্দুধর্মের কোন শাখা-প্রশাখা ? অথবা হরিচাঁদের দর্শন কি অবৈদিক দর্শন , নাকি তিনি বৈদিক দর্শনের ধারক ছিলেন ? বৈদিক ধর্মই পরবরতীকালে হিন্দুধর্ম নামে আখ্যায়িত হয়েছে । আর ধর্ম ও দর্শন মূলত একই কথা । অতএব হরিচাঁদ যদি বৈদিক দর্শনের ধারক হন , তাহলে তাঁর প্রবর্তিত মতুয়াধর্মও বৈদিক ধর্ম বা হিন্দুধর্মের শাখা হবে । অপরপক্ষে হরিচাঁদ ঠাকুর যদি অবৈদিক দর্শনের ধারক হন তাহলে তাঁর প্রবর্তিত মতুয়াধর্মও   হবে অবৈদিক ধর্ম । অর্থাৎ মতুয়াধর্ম বৈদিক বা হিন্দুধর্মের কো...

অবতার উপসংহার

হরিচাঁদ তত্ত্বামৃত -ডাঃ মণীন্দ্রনাথ বিশ্বাস (পৃঃ নং- ১৯৭ থেকে১৯৯) অবতার উপসংহার কেবা রাম কেবা কৃষ্ণ কেবা শ্রীগৌরাঙ্গ । কিবা প্রয়োজন আছে জানিনা সে রঙ্গ ।। রামলীলা কৃষ্ণলীলা ব্রজের গোপিনী । কিবা লাভ হবে ঘেটে এসব কাহিনি ।। রাধা কেহ ছিল কিনা কিম্বা ছিল শত । শুনিতে এসব কথা পরচর্চা মত ।। মতুয়ার ধর্ম কভু পরচর্চা নয় । পরধর্ম নিন্দা কভু উচিত না হয় ।। সত্য প্রেম পবিত্রতা নিয়ে যত ধর্ম । সে সকলি ধর্ম শুধু জানিও এ মর্ম ।। এই ধর্মে নিন্দা পাপ মতুয়া সকাশে । হরিচাঁদ দানিয়েছে দ্বাদশ নির্দেশে ।। অন্ধকারে ফেলে যাহা জীব সকলায় । মতুয়ার কাছে তাহা ধর্ম কভু নয় ।। ধর্ম ও দর্শন এক , অর্থ ভিন্ন নহে । কখনো দর্শন বলে কভু ধর্ম কহে ।। উভয়ের লক্ষ্য এক জীবের কল্যাণ । জীবের মঙ্গলে সে যে ব্যক্ত করে জ্ঞান ।। এই জ্ঞানে থাকা চাই যুক্তি ও বিজ্ঞান । তবেই মতুয়া কাছে পাবে সে সম্মান ।। অন্য যাহা ঘৃণা তাহা মতুয়া সকাশে । হরিচাঁদ নির্দেশেতে ইহাই প্রকাশে ।। সেই হেতু বেদতত্ত্ব মানিবে না কভু । দ্ব্যর্থহীন কন্ঠে যাহা বলিয়াছে প্রভু ।। নিজ ধর্ম সংস্কৃতি হৃদয়েতে ধরে । বেদবিধি সংস্কা...

ঋগবেদের কৃষ্ণের সাথে পরবর্তী কৃষ্ণের সাদৃশ্য

হরিচাঁদ তত্ত্বামৃত -ডাঃ মণীন্দ্রনাথ বিশ্বাস (পৃঃ নং- ১৯২ থেকে১৯৭) ঋগবেদের কৃষ্ণের সাথে পরবর্তী কৃষ্ণের সাদৃশ্য আর্যপূর্ব ভূভারতে ধর্ম ছিল বৌদ্ধ । প্রাচীন ভারত যারা করিল সমৃদ্ধ ।। ছোট ছোট রাজ্যে ছিল ভারত বিভক্ত । একের প্রভাব থেকে অন্যে ছিল মুক্ত ।। তথাপিও পরস্পরে ছিল সদ্ভাব । বৌদ্ধিক চেতনা আনে এমনি স্বভাব।। জনগণ ছিল রাজ্যে ক্ষমতার কেন্দ্র । সংসদীয়  পদ্ধতিতে চালাইত তন্ত্র ।। বহু রাজ্য নিয়ে হয় এক জনসংঘ । রাজ্যে রাজ্যে মিলনের ইহা বড় অঙ্গ ।। জনসংঘ মিলে ছিল বেদের বিরোধী । বিরুদ্ধে লড়িত সবে এর নিরবধি।। ঋগবেদে দেখা যায় ইহার প্রকাশ । বিভিন্ন সূক্তের মাঝে আছে এই ভাষ ।। ' ওহে ইন্দ্র সোমরসে হইয়া আচ্ছন্ন । সংসদের পরস্পরে করো হে বিচ্ছিন্ন ।। যজ্ঞ বিহীন সংসদ দুরাচার বড় । অতি শীঘ্র ইহাদের হত তুমি কর ।। '             ১৯৩ যাগযজ্ঞ পূজা আদি বৌদ্ধরা মানে না । পুনর্জন্ম স্বর্গ নিয়ে ইহারা ভাবে না ।। ইহাতে প্রমাণ হয় প্রাচীন ভারতে । ভূমিপুত্র সবে ছিল বৌদ্ধধর্ম মতে ।। বৌদ্ধ ধর্মাশ্রয়ে ছিল সকল অসুর ...